ইতিহাস
হিজরি 9 সালে তাবুক অভিযানের সময় বাহিনী প্রায় শুকিয়ে যাওয়া একটি ঝরনার কাছে পৌঁছায়। মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) ঘটনাটি বর্ণনা করেন। হাদিসটি সহিহ মুসলিমে আছে, ফজিলত অধ্যায়ে (كتاب الفضائل), নবী ﷺ-এর মুজিজা পরিচ্ছেদে, নং 706 (আবদুল বাকির নম্বর; সুন্নাহ ডট কমে 706-এর তৃতীয় বর্ণনা):
« إِنَّكُمْ سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَيْنَ تَبُوكَ وَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْتُوهَا حَتَّى يُضْحِيَ النَّهَارُ فَمَنْ جَاءَهَا مِنْكُمْ فَلاَ يَمَسَّ مِنْ مَائِهَا شَيْئًا حَتَّى آتِيَ ». فَجِئْنَاهَا وَقَدْ سَبَقَنَا إِلَيْهَا رَجُلاَنِ وَالْعَيْنُ مِثْلُ الشِّرَاكِ تَبِضُّ بِشَيْءٍ مِنْ مَاءٍ، فَسَأَلَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: « هَلْ مَسَسْتُمَا مِنْ مَائِهَا شَيْئًا ». قَالاَ: نَعَمْ. فَسَبَّهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لَهُمَا مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ. ثُمَّ غَرَفُوا بِأَيْدِيهِمْ مِنَ الْعَيْنِ قَلِيلاً قَلِيلاً حَتَّى اجْتَمَعَ فِي شَيْءٍ، وَغَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهِ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ ثُمَّ أَعَادَهُ فِيهَا فَجَرَتِ الْعَيْنُ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ أَوْ قَالَ غَزِيرٍ، حَتَّى اسْتَقَى النَّاسُ، ثُمَّ قَالَ: « يُوشِكُ يَا مُعَاذُ إِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ أَنْ تَرَى مَا هَا هُنَا قَدْ مُلِئَ جِنَانًا ».
অর্থ: “তোমরা আগামীকাল, ইনশাআল্লাহ, তাবুকের ঝরনায় পৌঁছাবে। দিন ভালোভাবে না চড়া পর্যন্ত তোমরা সেখানে পৌঁছাবে না। তোমাদের মধ্যে যে সেখানে পৌঁছাবে, সে আমি না আসা পর্যন্ত এর পানির কিছুই স্পর্শ করবে না।” আমরা সেখানে পৌঁছালাম। দুজন লোক আমাদের আগে পৌঁছে গিয়েছিল। ঝরনাটি ছিল জুতার ফিতার মতো সরু, তা থেকে অল্প অল্প পানি চুঁইয়ে পড়ছিল। আল্লাহর রাসূল ﷺ তাদের জিজ্ঞেস করলেন: “তোমরা কি এর পানির কিছু স্পর্শ করেছ?” তারা বলল: “হ্যাঁ।” নবী ﷺ তাদের তিরস্কার করলেন এবং আল্লাহ যা চাইলেন তা তাদের বললেন। তারপর লোকেরা হাত দিয়ে ঝরনা থেকে অল্প অল্প করে পানি তুলল, যতক্ষণ না একটি পাত্রে কিছু পানি জমল। আল্লাহর রাসূল ﷺ তাতে তাঁর হাত ও মুখ ধুলেন, তারপর সেই পানি ঝরনায় ফিরিয়ে দিলেন। তখন ঝরনা থেকে প্রবল ধারায় পানি বইতে লাগল (বর্ণনাকারী “প্রবল ধারায়” না “প্রচুর” বলেছেন, তা নিয়ে সন্দেহ করেছেন), এবং লোকেরা পানি নিল। তারপর তিনি বললেন: “হে মুআজ, তোমার আয়ু দীর্ঘ হলে হয়তো তুমি দেখবে, এই জায়গা বাগানে ভরে গেছে।”
সৌদিপিডিয়া অনুযায়ী, খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব 17 হিজরিতে হাজিদের পানি পান করানোর জন্য তাবুকের ঝরনা সংস্কারের নির্দেশ দেন। পরে মামলুক যুগে ঝরনার ওপর দুটি জলাধার তৈরি হয়। উসমানীয় যুগে এগুলোর কয়েকবার সংস্কার হয়, আর আজ এগুলো দুর্গের পাশে রয়েছে। পর্যটক ইবনে শুজা আল-মাকদিসি 623 হিজরিতে তাবুক দিয়ে যান। তিনি লেখেন, এখানে “উথলে ওঠা পানি এবং একটি মসজিদ আছে, যা মানুষ দেখতে আসে”।
আজ তাবুক অঞ্চল সেচের বড় বড় খামারে ঢাকা। এই আধুনিক দৃশ্য নিজে কোনো প্রমাণ নয়; হাদিসই যথেষ্ট।
যা নিশ্চিত এবং যা নিশ্চিত নয়
- নিশ্চিত: তাবুকের ঝরনার ঘটনা ও মুআজকে বলা কথা (সহিহ মুসলিম, নং 706, ফজিলত অধ্যায়)।
- নিশ্চিত: ঝরনা ও এর জলাধারগুলো শামি হজের পথের একটি মনজিল (সৌদিপিডিয়া)।
- নিশ্চিত: দুর্গের দুটি জলাধার 2022 সালের মার্চে জাতীয় স্থাপত্য ঐতিহ্য নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- প্রচলিত ধারণা: বর্তমান আইন আস-সুক্কারকে হাদিসের সেই ঝরনা বলে চিহ্নিত করা। স্থানীয়ভাবে তা মেনে নেওয়া হয়, তবে কোনো সহিহ সূত্র নির্দিষ্ট জায়গাটি স্থির করে না।
- অনিশ্চিত: ঝরনা বাঁধাইয়ের জন্য উমর যে রাজমিস্ত্রিকে দায়িত্ব দেন, তাঁর নাম (বিভিন্ন লেখায় “ইবনে গারিদ” বা “ইবনে আরিদ”)।
- সরেজমিনে যাচাই করুন: ঝরনার বর্তমান অবস্থা (পানি দেখা যায় কি না) ও জনসাধারণের প্রবেশাধিকার।
- সহিহ মুসলিম 706 (সুন্নাহ ডট কমে 706-এর তৃতীয় বর্ণনা), ফজিলত অধ্যায়, নবী ﷺ-এর মুজিজা পরিচ্ছেদ: https://sunnah.com/muslim:706c
- সৌদিপিডিয়া, শামি হজের পথ (উমর, 17 হিজরি, عين تبوك): https://saudipedia.com/طريق-الحج-الشامي
- সৌদিপিডিয়া (ইংরেজি), তাবুক আর্কিওলজিক্যাল ক্যাসল (আইন আস-সুক্কারের পাশের দুর্গ): https://saudipedia.com/en/tabuk-archaeological-castle
- আল-ওয়াতান, 27 জুলাই 2012-এর প্রবন্ধ: https://www.alwatan.com.sa/article/146190
- আল-জাজিরা, ত. আল-ফায়িদি (ইবনে শুজা আল-মাকদিসিকে উদ্ধৃত করেন, 623 হিজরি): https://www.al-jazirah.com/2026/20260511/ld1.htm
- আরিক, عين تبوك (সহায়ক সূত্র, মামলুক ও উসমানীয় জলাধার): https://areq.net/m/عين_تبوك.html
- সাবক, দুর্গের জলাধারগুলোর নিবন্ধন (7 মার্চ 2022): https://sabq.org/article/G6DyEiC