ইতিহাস
সামহুদি লিখেছেন, আল-ওয়াতিহ ছিল খায়বারের সবচেয়ে বড় দুর্গগুলোর একটি। তিনি বর্ণনা করেন, এর নাম সম্ভবত আল-ওয়াতিহ ইবনে মাজিন নামের এক ব্যক্তি থেকে এসেছে।
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, খায়বারের লোকেরা তাদের দুটি দুর্গ আল-ওয়াতিহ ও আস-সুলালিমে আশ্রয় নেয়, এবং এ দুটিই সবশেষে জয় হয়। নবী ﷺ এগুলো অবরোধ করেন « بضع عشرة ليلة », অর্থাৎ দশ রাতের কিছু বেশি। তারা প্রাণের নিরাপত্তা ও চলে যাওয়ার অনুমতি চাইল। তাদের তা দেওয়া হলো।
আল-ওয়াকিদি শর্তগুলো বিস্তারিত বলেছেন। অধিবাসীরা প্রাণের নিরাপত্তা পাবে এবং সন্তানদের নিয়ে চলে যাবে। তারা সোনা, রুপা, অস্ত্র ও কাপড় দিয়ে দেবে, শুধু প্রত্যেকের পরনের কাপড়টি ছাড়া। কিছু লুকালে তারা চুক্তির নিরাপত্তা হারাবে।
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, বনু আবিল হুকাইকের নেতা কিনানা কোনো ধনভাণ্ডার থাকার কথা অস্বীকার করে। পরে এর একটি অংশ একটি ধ্বংসস্তূপে মাটির নিচে পাওয়া যায়। সূত্রগুলো বলে, শপথ করে এই সম্পদ গোপন করাই ছিল তার মৃত্যুদণ্ডের কারণ।
সামহুদি ইবনে শাব্বার সূত্রে বর্ণনা করেন, আল-ওয়াতিহ ও আস-সুলালিমের লোকেরা চুক্তির মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে, এবং এই জমিগুলো বিশেষভাবে নবী ﷺ-এর ভাগে আসে। ইমাম মালিক বলতেন, খায়বারের একটি অংশ শক্তি প্রয়োগে এবং একটি অংশ চুক্তির মাধ্যমে জয় করা হয়। ইবনে ইসহাক স্পষ্ট করেন, আল-কাতিবা মহল্লা গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ এবং নবী ﷺ-এর অংশের জন্য নির্ধারিত হয়, যা খেজুর ও যব আকারে তাঁর স্ত্রী ও আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করা হতো।
আস-সুলালিম। সামহুদি লিখেছেন: « كان آخر حصون خيبر فتحا »। আল-ওয়াকিদি এখানে আবিল হুকাইক পরিবারের দুর্গের অবস্থান বলেছেন। সৌদিপিডিয়া একে এখনো টিকে থাকা দুর্গগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছে, তবে বিবরণ বা অবস্থান দেয়নি।
বর্তমান অবস্থা। সৌদিপিডিয়া লিখেছে: « حصن الوطيح ويسمى مكيدة أو عبلة ورشيدة »। মাকিদা পুরোনো খায়বারের দক্ষিণ প্রান্তে পাথরের একটি গ্রাম। প্রায় 2014 সাল থেকে এর সংস্কার চলছে। মাকিদা ও আশ-শুরাইফের মাঝে আস-সুবাইখা নামের একটি লবণাক্ত সমভূমি বিস্তৃত। দুর্গে প্রবেশের সুযোগ আলউলা রয়্যাল কমিশনের কাছ থেকে যাচাই করে নিতে হবে।
যা নিশ্চিত এবং যা নিশ্চিত নয়
- নিশ্চিত: খায়বার জয় হয়, এবং এরপর নবী ﷺ অধিবাসীদের জমিতে চাষাবাদ করতে দেন (সহিহ বুখারি 2338)। প্রতিটি দুর্গের আলাদা বিবরণ দুই সহিহ গ্রন্থে নেই।
- ঐতিহাসিকদের বর্ণনা: আল-ওয়াতিহ ও আস-সুলালিম অবরোধ, চুক্তির মাধ্যমে আত্মসমর্পণ, শর্তাবলি, কিনানার ধনভাণ্ডারের ঘটনা (ইবনে ইসহাক, আল-ওয়াকিদি, ইবনে শাব্বা)।
- প্রচলিত ধারণা: মাকিদায় আল-ওয়াতিহের অবস্থান, এবং « عبلة ورشيدة » নামগুলো। আস-সুলালিমের অবস্থান জানা নেই।
- অনিশ্চিত: “আল-ওয়াতিহ” নামের উৎস।
সূত্র
1. সহিহ বুখারি 2338 (sunnah.com)।
2. ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা, খণ্ড 2, পৃ. 332, 336-337, 349-352।
3. আল-ওয়াকিদি, আল-মাগাজি, খণ্ড 2, পৃ. 668-671।
4. সামহুদি, ওয়াফাউল ওয়াফা, খণ্ড 4, পৃ. 73, 97, 167।
5. ইবনে হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড 7, পৃ. 478।
6. সৌদিপিডিয়া, « محافظة خيبر »।
7. আশ-শারক আল-আওসাত (আরবি সংস্করণ), 2 এপ্রিল 2014।